Furiosa: A Mad Max Saga Movie Review in Bangla: কেমন হলো ফিউরিওসার প্রতিশোধের গল্প?

 নমস্কার সিনেমা প্রেমী বন্ধুরা! ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া অস্কারজয়ী অ্যাকশন মাস্টারপিস 'Mad Max: Fury Road' সিনেমাটির কথা নিশ্চই আপনাদের মনে আছে? মরুভূমির বুকে সেই অবিশ্বাস্য হাই-স্পিড অ্যাকশন আর চেজিং সিকোয়েন্স বিশ্বজুড়ে দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। দীর্ঘ ৯ বছর পর, পরিচালক জর্জ মিলার আমাদের আবারো ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন সেই চেনা ধ্বংসাত্মক মরুভূমিতে। তবে এবার কোনো সিকুয়েল নয়, বরং ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম সেরা নারী চরিত্র 'ফিউরিওসা'র অতীত জীবন নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন প্রিকুয়েল—Furiosa: A Mad Max Saga

​আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কেমন হলো বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমাটি। এটি কি আগের পার্টের মতো হাইপ ধরে রাখতে পারলো? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

​সিনেমার মূল গল্প (স্পয়লার মুক্ত)

​গল্পটি মূলত 'ফিউরিওসা' চরিত্রটির শৈশব থেকে শুরু হয়। যখন পৃথিবী ধ্বংসের মুখে এবং চারদিকে শুধু রুক্ষ মরুভূমি, তখনো একটি সবুজ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল টিকে ছিল, যার নাম 'গ্রিন প্লেস'। সেখান থেকে ছোট্ট ফিউরিওসাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এক নিষ্ঠুর বাইকার গ্যাং-এর লিডার ডেমেন্টাস।

​নিজের চেনা জগৎ আর মাকে হারিয়ে ফিউরিওসা বন্দি হয় এক নরকে। এরপর ক্ষমতা আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সে মুখোমুখি হয় আরেক চেনা খলনায়ক 'ইমর্টান জো'-এর। এই দুই অত্যাচারী শাসকের ক্ষমতার লড়াইয়ের মাঝে পড়ে ফিউরিওসা কীভাবে নিজের প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে রাখলো এবং কীভাবে সে একজন দক্ষ ও অপরাজেয় যোদ্ধায় পরিণত হলো—তা নিয়েই এগিয়েছে সিনেমার মূল কাহিনী।

​সিনেমার ইতিবাচক দিকগুলো

  • আনিয়া টেলর-জয়ের অনবদ্য অভিনয়: শার্লিজ থেরনের মতো আইকনিক চরিত্রের জুতোয় পা গলানো সহজ ছিল না। কিন্তু আনিয়া টেলর-জয় তার চোখের ভাষা এবং দুর্দান্ত বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে ফিউরিওসা চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন। সিনেমায় তার সংলাপ কম থাকলেও স্ক্রিন প্রেজেন্স ছিল অসাধারণ।
  • ভিলেন রূপে ক্রিস হেমসওয়ার্থ: 'থর' খ্যাত ক্রিস হেমসওয়ার্থকে এই প্রথম এমন এক পাগলাটে, নিষ্ঠুর অথচ কিছুটা কমিক খলনায়কের চরিত্রে দেখা গেছে। ডেমেন্টাস চরিত্রে তার অভিনয় এক কথায় ছিল অনবদ্য এবং তার নতুন লুকটি ছিল দেখার মতো।
  • অ্যাকশন ও স্টান্ট কোয়ালিটি: জর্জ মিলার অ্যাকশন দৃশ্যের মাস্টার। এই সিনেমাতেও মরুভূমির বুকে বাইক এবং বিশাল সব ট্রাকের মধ্যকার চেজিং সিকোয়েন্সগুলো আপনার গায়ের লোম খাড়া করে দেবে।
  • ভিজ্যুয়াল ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক: সিনেমাটোগ্রাফি এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আপনাকে পুরো ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট মরুভূমির সেই নির্মম পৃথিবীর অংশ করে রাখবে।

​সিনেমার নেতিবাচক দিক

  • Fury Road-এর সাথে তুলনা: যারা ২০১৫ সালের সিনেমার মতো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নন-স্টপ হাই-স্পিড অ্যাকশন আশা করে যাবেন, তারা কিছুটা হতাশ হতে পারেন। এই সিনেমাটি অ্যাকশনের চেয়ে ফিউরিওসার জীবন এবং ইমোショナル জার্নির ওপর বেশি ফোকাস করেছে।
  • CGI-এর অতিরিক্ত ব্যবহার: আগের পার্টে রিয়েল স্টান্টের ব্যবহার বেশি ছিল, যা এটিকে জীবন্ত করেছিল। কিন্তু এই পার্টে কিছু জায়গায় গ্রাফিক্সের ব্যবহার একটু বেশি চোখে পড়ে।
  • ​আমাদের চূড়ান্ত রায়

    Furiosa: A Mad Max Saga সিনেমাটি হয়তো আগের পার্টের মতো পুরোপুরি নিখুঁত নয়, তবে এটি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা একটি অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা। আনিয়া এবং ক্রিসের দুর্দান্ত অভিনয়, চমৎকার মেকিং সিনেমাটিকে বড় পর্দার জন্য একটি দারুণ ভিজ্যুয়াল ট্রিট বানিয়ে তুলেছে। যারা অ্যাকশন ও সায়েন্স-ফিকশন ঘরানার সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই উপভোগ্য একটি সিনেমা।

    আমাদের রেটিং: ৪/৫ (৫ এর মধ্যে ৪)



Comments